বান্দরবানের দুই পাহাড়ি উপজেলা লামা ও আলীকদম এখন কার্যত অন্ধকারে। বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ মিলছে মাত্র ১ থেকে দেড় মেগাওয়াট। ফলে দিনরাত চলছে পালাক্রমে লোডশেডিং। তীব্র গরমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই বিদ্যুৎহীনতা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের তথ্য, এই দুই উপজেলাসহ বমু বিলছড়িতে মোট চাহিদা ৬.৫ থেকে ৬.৮ মেগাওয়াট। পুরো বিদ্যুৎ আসে চকরিয়া কেন্দ্র হয়ে। চকরিয়া বরাদ্দ পায় কক্সবাজার থেকে। কক্সবাজার পায় দোহাজারী গ্রিড থেকে। কিন্তু গ্রিড পর্যায়েই ঘাটতি থাকায় চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদমে বরাদ্দ পৌঁছাচ্ছে নামমাত্র।
সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় আলীকদম সদর। গৃহিণী নয়নদেবী তঞ্চঙ্গ্যার ভাষায়, “বাচ্চাদের পড়ানো যায় না। রান্নাও বন্ধ হয়ে যায়।” প্রথম সাময়িক ও বৃত্তি পরীক্ষার আগে এ অবস্থায় চরম দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা। শিক্ষার্থী বায়েজিদ রহমান শিহাব বলে, “বই খুলতেই কারেন্ট চলে যায়।”
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনএম মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন, রমজানের পর থেকে লোডশেডিং বাড়ায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে কষ্ট পাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। সন্ধ্যার পর বাজারে জেনারেটরই একমাত্র ভরসা। আলীকদম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য নাছির উদ্দিন জানান, বাড়তি তেল খরচে লাভের বদলে লোকসান হচ্ছে। সরকারি বেসরকারি অফিসে কম্পিউটারভিত্তিক সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ঘুরে যাচ্ছে।
লামা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরী বলেন, “চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ এত কম যে সব লাইন চালু রাখা অসম্ভব।”
কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী দীপ্ত বড়ুয়া জানান, কক্সবাজারেই চাহিদা ১৪০ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ৯০ মেগাওয়াট। বরাদ্দ বাড়ানো স্থানীয় অফিসের হাতে নেই। তবে চকরিয়া কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কিছুটা সমাধান সম্ভব।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি, দোহাজারী ও কক্সবাজার গ্রিড থেকে লামা-আলীকদমের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় লোড বরাদ্দ দিতে হবে। দ্রুত সমাধান না হলে সামনে সংকট আরও ভয়াবহ হবে বলে মনে করছেন তারা।