নিজ কার্যালয়ে ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (আগের বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক ডা. অনিন্দিতা দত্তকে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে বাসায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের মেয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তিনি।
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, একদল লোক রোববার (১৬ মার্চ) সকাল থেকে অনিন্দিতা দত্তকে বাংলাদেশ মেডিকেলের এফ ব্লকে ক্যানসার ভবনে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। কুমিল্লা থেকে আসা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে অবরুদ্ধ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি মূলত তাদের এলাকার রাজনৈতিক ব্যাপার। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জড়িত নেই। যিনি ইস্যুটা তৈরি করেছেন তিনিও হিন্দু সম্প্রদায়ের। সেই লোক এলাকা থেকে দলবল এনে এবং এখানকার কিছু লোককে সম্পৃক্ত করে ডা. অনিন্দিতাকে অবরুদ্ধ করেন।
কিছু লোক মিলে ধান্দা করার চেষ্টা করছে আর কি সন্ধেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যেটা এখন সবখানেই চলছে। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত স্পটে যাই, প্রক্টরও সেখানে যান। সেগুনবাগিচা থেকে সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে একটি টিম আসে। শাহবাগ থানা থেকে সেকেন্ড অফিসার টিম নিয়ে আসেন। পরে সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে করে তাকে (ডা. অনিন্দিতাকে) পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বাসায় চলে গেছেন।
রোববার দুপুর আড়াইটার পর সেনাসদস্যরা ডা. অনিন্দিতাকে ধানমন্ডিতে তার বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা যায়। এর আগে সকাল ৮টায় অফিসে আসার কিছুক্ষণ পরই এক দল লোক তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন।
ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ছিলেন।
২০২১ সালে ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও কুমিল্লায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় মেয়ে অনিন্দিতা দত্তকেও আসামি করা হয়েছে।
এ সব মামলায় ডা. অনিন্দিতাকে গ্রেফতারের দাবি নিয়ে কুমিল্লার তাদের প্রতিপক্ষের কিছু লোক ঢাকায় এসে নিজ কার্যালয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন।