নরসিংদীর পলাশে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল-মাসুম (মাসুম) মারা গেছেন। দীর্ঘ ৯ দিন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ইব্রাহিম আল-মাসুম পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের মমিন হাজীর ছেলে। তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট রাতে ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের ফকির বাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় একটি মুদিদোকানে অবস্থান করছিলেন মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজন।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববিরোধের জেরে বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানির নেতৃত্বে একটি দল আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ছাত্রদল নেতা মাসুম।
এদিকে হামলায় বাধা দিতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন ডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও কয়েকজন। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন।
পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহত মাসুমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মাসুমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন মাসুমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় নিহতের বোনজামাই বাদী হয়ে পলাশ থানায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ওসি আরও জানান, মাসুমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তবে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।