বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই ম্রো শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রিংলতপাড়ায় মারা যায় তারা। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় ঘটনাটি জানাজানি হয় পাঁচ দিন পর, বৃহস্পতিবার সকালে। এরপর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত দুই শিশু হলো লে ক্লাং ম্রোর ৩ মাস বয়সী মেয়ে জং রুং ম্রো এবং লুকুন ম্রোর ৭ মাস বয়সী ছেলে খতং ম্রো। পরিবারের ভাষ্য, মৃত্যুর আগে দুজনেরই তীব্র জ্বর ছিল। শরীরে ছোট ফোসকা ও লালচে দানা উঠেছিল।
বর্তমানে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। এর মধ্যে ৪ জনই কুরুকপাতার দুর্গম এলাকার। রিংলতপাড়ার বাসিন্দা তনওয়াই ম্রো জানান, বুধবার তার বোনসহ ৩ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রিংলতপাড়াসহ আশপাশের আরও ৩টি পাড়ায় ২০ থেকে ৩০ জন শিশু একই উপসর্গে ভুগছে। দুর্গম পথ ও খরচের কারণে তাদের হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়নি।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান বলেন, “খবর পেয়েই শুক্রবার সকালে ৪ সদস্যের মেডিকেল টিম কুরুকপাতায় পাঠানো হয়েছে। টিমটি রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা দিচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানান, “মৃত্যুর কারণ হাম কি না, তা মেডিকেল রিপোর্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। আক্রান্তদের দ্রুত সদরে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, জেলায় এখনো নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে কুরুকপাতার ঘটনা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাত পুং ম্রো বলেন, “পাহাড়ি এলাকা দুর্গম হওয়ায় যোগাযোগ কঠিন। সময়মতো টিকা ও চিকিৎসা না পৌঁছানোয় এমন ঘটনা ঘটছে।”
পাহাড়ে নেটওয়ার্ক ও রাস্তার অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতিতে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। নিয়মিত টিকাদান ও স্বাস্থ্যক্যাম্প চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।