চট্টগ্রাম প্রতিদিন

আলীকদমের কুরুকপাতায় ৭০ শিশু হাম-রুবেলা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে, ২০০ জনকে জরুরি টিকাদান

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা এলাকায় হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছানোয় স্থানীয় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

 

রবিবার নতুন করে ৭০ জন শিশু জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীরে লালচে ফুসকুড়িসহ হাম-রুবেলার উপসর্গ নিয়ে ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসে। একদিনে এত সংখ্যক রোগী আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, আক্রান্তদের পৃথকীকরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সমন্বিতভাবে চালানো হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ইতোমধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ২০০ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুর্গমতার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়ায় বিশেষ এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।

 

এদিকে কুরুকপাতা আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর তুহিনুর রহমান তুহিন রবিবার সরেজমিনে মেডিকেল ক্যাম্প ও টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি চিকিৎসা সেবার মান, টিকাদানের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

 

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা ও সচেতনতার অভাবে শিশুরা ক্রমেই বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। দ্রুত স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, নিয়মিত টিকাদান জোরদার এবং পুষ্টি সহায়তা বৃদ্ধি করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীরে দানা, চোখ লাল হওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে এবং শিশুর টিকা সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে।



সম্পর্কিত খবর