ঢাকা

উদ্বোধনের আগেই গাজীপুরে সড়ক ধস: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

গাজীপুরে নির্মাণাধীন একটি সড়ক কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ফাটল ধরে ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত দেবে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদীর পশ্চিম তীরে নির্মাণাধীন সড়কের একটি অংশ হঠাৎ দেবে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তড়িঘড়ি করে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ঢালাই শেষ হওয়ার তিন দিনের মাথায় সড়কে ফাটল দেখা দেয় এবং পরে কয়েক ফুট দেবে যায়। বর্তমানে ওই অংশে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

 

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ধনঞ্জয়খলী এলাকায় সড়ক নির্মাণের কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ইউসিসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাশিমপুর এলাকায় বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়নকাজ দুটি প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্যাকেজ নম্বর ১২-এর অধীনে ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৭১ টাকায়। অন্যদিকে প্যাকেজ নম্বর ৫-এর আওতায় ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১৪ কোটি ২৮ লাখ ১১ হাজার ৪৫৯ টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, ১ দশমিক ৮ মিটার ফুটপাত, রেলিং ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কথা রয়েছে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, নির্ধারিত মান ও পুরুত্ব বজায় না রেখে ঢালাই করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদীর পাড়সংলগ্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে পড়া প্রমাণ করে এখানে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে, বলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।

 

এ বিষয়ে কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, নদীর পাড়ে রাস্তা হওয়ায় প্রাকৃতিক কারণে মাটি সরে যেতে পারে। পরিকল্পনায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

 

প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুনুর রশীদ জানান, আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উদ্বোধনের আগেই সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, উচ্চ ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে কোথায় ঘাটতি ছিল। দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



সম্পর্কিত খবর