২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রধান ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারাকে সেক্রেটারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ভোরে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটি প্রকাশ করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আরিফুল ইসলাম আদীব, মাহবুব আলম মাহির, খালেদ সাইফুল্লাহ, এহতেশাম হক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুন্না, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, সাইফুল্লাহ হায়দার ও অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি দলটির সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা, প্রার্থী বাছাই, মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়, আইন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম, মিডিয়া ও প্রচার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকবে। এদিকে : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “আগামী নির্বাচনে এনসিপি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। ডিসেম্বরের মধ্যে যদি প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের আহ্বায়ক কমিটি থাকে, তাহলে ৩০০ আসনে আমরা শক্তিশালী প্রার্থী দিতে পারব। কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের কাজ চলছে।” এনসিপির জেলা কমিটি গঠন উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিববের সাক্ষাৎকার পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন সারজিস আলম। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরের একটি হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন- দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকিন আলম। সারজিস আলম বলেন, “আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর জাতীয় পার্টির আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অধিকার নেই। একদম স্পষ্ট করে বলি, আগামী নির্বাচনে ২৪-এর অভ্যুত্থানে যাদের নির্দেশে হাজারের অধিক খুন করা হয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা থেকে শুরু করে হাজারে হাজারে গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করা হয়েছে; সেই খুনিরা এই বাংলাদেশে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারে না।”
তিনি বলেন, “আগামী বাংলাদেশ এবং জণগণের স্বার্থকে সামনে রেখে যদি, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ঐক্যমত্ব হয়ে এলায়েন্সের (জোট) সুযোগ থাকে, যদি আমরা ঐক্যমত্ব হতে পারি তাহলে জনগণের স্বার্থে এলায়েন্স হতে পারে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলমান, তবে, এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”
বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, “আমাদের শাপলা প্রতীক দিতে গিয়ে তারা তাদের জায়গা থেকে লম্বা সময় ধরে স্বেচ্ছাচারিতা করেছে। আমাদের শাপলা না দিয়ে শাপলা কলি দেওয়া হয়েছে। আমরা শাপলা কলি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচন কমিশনকে আমাদের জায়গা থেকে আহ্বান করব তারা যদি একই ধরণের আচরণ আগামীতে করেন, তাহলে তাদের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হবে।”