কক্সবাজারে আনুষ্টানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত সি-ট্রাক পরিষেবা। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল)
পরীক্ষামূলক চলাচলে সফলতার পর কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় আধুনিক সি-ট্রাক ‘এসটি ভাষা শহীদ জব্বার’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী ড. মুহাম্মদ সলিমুল্লাহ খান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সুজাউদ্দিন।
উদ্বোধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সুজাউদ্দিন বলেন, মহেশখালীতে শুধু সি-ট্রাক উদ্বোধন নয়, এর মাধ্যমে বহুবছরের ঘাট মাফিয়াদের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আজ শুধু সি ট্রাকের উদ্বোধন হয়নি, বহু বছর ধরে মহেশখালী ঘাটকে জিম্মি করে রাখা মাফিয়া চক্রের দুঃশাসনের অবসান ঘটেছে। এই দিনটি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সি-ট্রাক পরিষেবা চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ অবশেষে পাচ্ছেন নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ।
এস এম সুজাউদ্দিন আরও বলেন, ঘাট ভিত্তিক যাতায়াত ছিল অনিয়ম, দালালি ও শোষণের মাধ্যম । আমরা বিশ্বাস করি, আজকের এই পদক্ষেপ শুধুই যোগাযোগ উন্নয়নের নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বিপ্লবের সূচনা।
তিনি মনে করেন, এই সি-ট্রাক পরিষেবা কক্সবাজার-মহেশখালী অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনের পর সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে সি-ট্রাকটি কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে এবং দুপুর ১২টার দিকে মহেশখালী জেটিঘাটে পৌঁছায়। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ সি-ট্রাক দেখতে ভিড় করেন। এসময় ছাত্রজনতা নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও সঙ্গে থাকা বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ড. সলিমুল্লাহ খানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
জনসভায় ড. সলিমুল্লাহ খান ভাড়া সাধ্যের মধ্যে রাখার পাশাপাশি দ্রুত আরও একটি সি-ট্রাক চালুর দাবি জানান। এসময় উপদেষ্টা বলেন, ৪০-৫০ বছর ধরে এ এলাকায় একটি চক্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। তাদের কারণে সি-ট্রাক চালু করতে আট মাস সময় লেগেছে। মামলার কারণে ড্রেজিং কাজও থেমে গিয়েছিল।
তিনি আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএ প্রস্তাবিত ৫০ টাকার ভাড়া কমিয়ে এখন বাঁকখালী নদীর ৬ নম্বর জেটিঘাট থেকে মহেশখালী যেতে যাত্রীপ্রতি ৩৫ টাকা এবং নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘাট টোল বাবদ ৫ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে।
প্রতিদিন তিনবার করে চলাচল করবে ২৫০ যাত্রী ধারণক্ষমতার এই সি-ট্রাক। কক্সবাজার থেকে সকাল সাড়ে ৮টা, দুপুর ১২টা ও সন্ধ্যা ৬টায় সি-ট্রাক ছাড়বে। আর মহেশখালী থেকে ছেড়ে আসবে সকাল সাড়ে ৭টা, বেলা ১১টা ও বিকেল ৫টায়। এই সি-ট্রাক চালুর মাধ্যমে সারা বছর ধরে ঝুঁকিহীন ও নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা পেল মহেশখালীবাসী ও পর্যটকরা।