কালিয়াকৈর পৌরসভা-এ হাট-বাজার ইজারা প্রদান প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া পে-অর্ডার পরিবর্তন, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে দর বাতিল এবং ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় সফিপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা বুধবার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিল্প সমৃদ্ধ এই পৌর এলাকায় বর্তমানে ছয়টি বড় হাট-বাজার, দুটি টার্মিনাল, তিনটি মাছের আড়ৎ ও আটটি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। প্রতি বাংলা সনে এসব স্থাপনা ইজারা দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ছিল জমাদানের শেষ দিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফিপুর বাজারের ইজারার জন্য তিনজন দরদাতা অংশ নেন। সফিপুর বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম ১ কোটি ৫০ লাখ ৫০০ টাকার দরপত্র জমা দেন। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী পৃথক দুই ব্যক্তির নামে ১ কোটি ৫৮ লাখ এবং ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দরপত্র দাখিল করেন। বিকেলে পৌর কার্যালয়ে উপস্থিত সবার সামনে ঘোষণা করা হয়। ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দরদাতাই ইজারা পেয়েছেন।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘোষণার পর নাজমুল ইসলাম দরপত্রের কপি ও সংশ্লিষ্ট পে-অর্ডার দেখতে চাইলে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তা দেখাতে বাধা দেন। এ সময় পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কোনো আপত্তি জানাননি বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিধি অনুযায়ী দরপত্রে উল্লেখিত টাকার ৮০ শতাংশ সমপরিমাণ পে-অর্ডার জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ১ কোটি ৫৮ লাখ ও ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দরপত্রের ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে পে-অর্ডার জমা দেওয়া হয়নি। বরং বেশি অংকের দরপত্র বাতিল করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা কম মূল্যের একটি দর গ্রহণ করা হয়েছে, ফলে সরকার আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত ও নিয়ম মেনে জমা দেওয়া দরপত্র উপেক্ষা করে প্রায় ৫ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ইজারা প্রদান করা হয়েছে।
পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫ আগস্ট মেয়র পদ শূন্য হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। হাট-বাজার ইজারা, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম তার তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। সর্বোচ্চ দরদাতার কাগজপত্র ঠিক না থাকায় তারা কাজ পায়নি।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল ইসলাম জানান, হাট-বাজার দরপত্রে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।