ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গভীর রাতে শাহিনুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে আটকের জন্য গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে শাহিনুর ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে পুলিশ সদস্যরা ফিরে আসেন। গত সোমবার রাত ১টার দিকে উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের পারখিদ্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শাহিনুর রহমান ওই গ্রামের নূর আলী মুন্সীর ছেলে। পুলিশ বলছে, শাহিনুর অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে আটকের উদ্দেশ্যে পুলিশ তার বাড়িতে যায়।
কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মনিরুজ্জামান বলেন, “শাহিনুর অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ওই সময়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করা এবং বিভিন্ন রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশের কাছে এসেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আটকের চেষ্টা করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে শাহিনুর সেখান থেকে পালিয়ে যান।” তিনি আরও বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তবে পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহিনুর রহমান। তার দাবি, তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ওই সময়ে ছাত্রদল ও যুবদলের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
শাহিনুর বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং আমাকে ‘ক্রসফায়ার’-এর আসামি করা হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন।” তার ভাষ্য, তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি কোনো পদ গ্রহণ করেননি।
সোমবার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহিনুর বলেন, “রাত ১টার দিকে পুলিশ আমার বাড়ির সামনে এসে গেটে লাথি দিয়ে দরজা খুলতে বলে। গেট খুলে দিলে এসআই মনিরুজ্জামান আমাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে সেখানে বাগবিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আমি সেখান থেকে সরে যাই।”
শাহিনুরের দাবি, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার ভিত্তিতে তাকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাকে থানায় নিতে পারলে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি সরে যান। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে শাহিনুরের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবিতে ছিলেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। পরিবারের দাবি, অতীতে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল।
পুলিশ ও শাহিনুর রহমানের বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘটনার কারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি পাওয়া গেছে। তবে গভীর রাতে পুলিশি অভিযান, পরিবারের বাধা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির সরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, “শাহিনুর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন এবং এই কর্মকাণ্ড এখনো অব্যাহত রেখেছেন—এমন অভিযোগ ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তির। আমরা খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, তিনি একজন সন্ত্রাসী। আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কোনো সন্ত্রাসীর সঙ্গে আপস করা হবে না। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।”