খুলনা

কুষ্টিয়ায় কারাগারে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ৭ বছর পর মামলা, তদন্তের নির্দেশ

কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. এ. শামিম আরজুর কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগে মৃত্যুর ঘটনায় সাত বছরপর  আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ছেলে এস. এম. ফুয়াদ শামীম। তিনি কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালতে মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ (৬২), সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন (৫৪), সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাত (৫২), সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা (৫৫), কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার(৫০), সাবেক জেল সুপার জাকির হোসেন (৫০), সাবেক ওসি নাসির উদ্দিন (৫২) সহ প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এম. এ. শামিম আরজু দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কুষ্টিয়া ডিসি অফিস প্রাঙ্গণে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাতে যান। এ সময় পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। এ সময় মারধরে গুরুতর আহত হন শামিম আরজু। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং সেখানে নির্যাতনের ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

 

পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হলে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ১৫ দিন পর তার মৃত্যু হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী এস. এম. ফুয়াদ শামীম অভিযোগ করেন, তার পিতাকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল কাদের বলেন, “মামলাটি আদালতে গৃহীত হয়েছে এবং বিচারক বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।”

 

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

 

মালার বাকি আসামীরা হলেন,  সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলার আক্তারুজ্জামান (৫০), সাবেক পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু (৫০) সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর লিপন সরকার (৪৫), সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর কাজি মেহেদী হাসান (৪২) সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর সোহেলী আক্তার (৪০), কোর্টপাড়ার মৃত চাঁদ আলী মুক্তার আলীর ছেলে আবুল হাশেম (৭২) সাবেক কারারক্ষী লিমন হোসেন (৪২) মিরপুর উপজেলার তাঁতিবন্দ (চারমাইল বাজার বারুইপাড়া) মৃত নেহাল মন্ডলের ছেলে তারেক নেহাল তপে (৪৮)।  



সম্পর্কিত খবর