শিক্ষা

গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে শিক্ষক বদলি নিয়ে বিতর্ক, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল শিক্ষক সংকট, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও বিতর্কিত শিক্ষকদের পুনর্বহালের ঘটনায় চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। প্রায় সাত মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটি প্রধান শিক্ষকবিহীন চলছে, যা শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সূত্র: জাগোনিউজ২৪, ইনকিলাব

অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ এবং স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসলেও উল্টো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ও শাস্তিমূলক বদলির শিকার কিছু শিক্ষক আবারও স্কুলটিতে ফিরেছেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, যারা ভালো শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে, অথচ বিতর্কিত ও অদক্ষ শিক্ষকদের আবারও পদায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, ইংরেজি বিভাগের দুই দক্ষ শিক্ষক মো. সোলায়মান ও ইমারত হোসেনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বদলি করা হয়েছে, যদিও তারা বদলির জন্য আবেদন করেননি। তাদের স্থলে সিকান্দার আলী নামের একজন সাধারণ বিএ ও বিএড ডিগ্রিধারী শিক্ষককে পদায়ন করা হয়েছে, যিনি এর আগে ২২ বছর একই স্কুলে ছিলেন এবং একাধিক অভিযোগের কারণে ২০২১ সালে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল।

এছাড়া, নতুন করে বদলি হয়ে আসা আরেক শিক্ষক রাফি আহম্মেদ সম্পর্কে অভিভাবকদের অভিযোগ, তিনি অতীতে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করতেন এবং এক ছাত্রের মায়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১৪ সালে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে শাস্তিমূলকভাবে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়, তবে ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর তিনি আবারও ল্যাবরেটরি স্কুলে ফিরে এসেছেন।

অভিভাবকরা দাবি করছেন, বিতর্কিত ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ থাকা শিক্ষকদের সরিয়ে যোগ্য ও সুনামের অধিকারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা শেখ বলেন, “শিক্ষক সংকট ও অন্যান্য জটিলতা রয়েছে, যা সমাধান করা জরুরি। তবে এটি মোবাইল ফোনে বোঝানো সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী বলেন, “শিক্ষক বদলি তিনভাবে করা হয় শিক্ষকের আবেদন, জনস্বার্থে ও প্রশাসনিক কারণে। যদি কেউ আবেদন না করে, তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে বদলি হতে পারেন, কিন্তু কারও নাম ব্যবহার করে ভুয়া আবেদন তৈরি করে বদলি করা ঠিক নয়।”

বিতর্কিত শিক্ষকদের পদায়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “একাধিক বিয়ে আইনত সমস্যা না হলেও শিক্ষক হিসেবে এটি সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষকদের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।”

অভিভাবকরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে বলেছেন, গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের রাখা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে। 

বায়ান্ন/একে/এসবি

 



সম্পর্কিত খবর