দুই বছরের যুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের মাধ্যমে গাজা সিটিকে ধ্বংস করছে ইসরায়েল, যাতে মানুষ বাধ্য হয়ে দক্ষিণে পালায়—এমনই কৌশল নিয়েছে দখলদার বাহিনী। শুক্রবার পুরো গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে ইসরায়েলি অবরোধ ও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪১ জনে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদ্রাঈ শুক্রবার গাজা সিটির অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেন, সেনারা ‘অভূতপূর্ব শক্তি’ ব্যবহার করবে। তিনি মানুষকে আহ্বান জানান, এই সুযোগে শত সহস্র মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়ে দক্ষিণমুখী হতে। এখন কেবল উপকূলবর্তী আল-রাশিদ সড়কই পালানোর একমাত্র অনুমোদিত পথ।
ইসরায়েলি সেনারা জানিয়েছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি গাজা সিটি ছেড়েছেন। অন্যদিকে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দক্ষিণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম শুক্রবার গাজা সিটি থেকে ‘হৃদয়বিদারক’ খবর জানান। উপকূলের দিকে ছুটে চলা মানুষরা অবিরাম হামলার কারণে কোথাও বিশ্রাম নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, “এই অভিযানে সম্পূর্ণ ব্লক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। টাল আল-হাওয়ায় অনেক পরিবার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আটকা পড়ে আছে। ”
অনেকেই বাধ্য হয়ে গাজা ছাড়তে চান, কিন্তু দক্ষিণে আল-মাওয়াসি এলাকায় যেতে ট্রাক বা গাড়ি ভাড়া করার সামর্থ্য নেই। আবার ওই এলাকাও অতীতে ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে, যদিও সেটিকে তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
তবু শত শত পরিবার আল-মাওয়াসির উদ্দেশে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছে।
পঞ্চাশ বছর বয়সী নেভিন আহমেদ বৃহস্পতিবার সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে গাজা সিটি থেকে কেন্দ্রীয় শহর দেইর আল-বালাহ পর্যন্ত হেঁটে গেছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, “আমরা ১৫ কিলোমিটারের বেশি হেঁটেছি, ক্লান্তিতে হামাগুড়ি দিতে হয়েছে। আমার ছোট ছেলে ক্লান্ত হয়ে কান্না করছিল। আমরা পালা করে একটি ছোট ঠেলাগাড়ি টেনেছি। ”