গাজীপুরের কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করায় উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে একটি সড়ক৷ সেটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত নিউজ দৃষ্টি গোচর হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত সোমবার সড়কটি পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসময় তিনি পূর্বের তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন, তবুও নির্মাণমান বজায় না রাখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হারুন-অর-রশিদ এবং প্রকৌশলী শামসুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে তাদের বরখাস্তের চিঠি হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উদ্বোধনের আগেই একটি সড়ক ধসে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। পূর্ণাঙ্গ তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, পূর্বে গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে নতুন করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে (ছুটির দিনসহ) প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন তদন্ত কমিটিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আখতারুর রহমানকে প্রধান করে যুগ্ম সচিব হাফিজুল্লাহ খান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সিইও, বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন ডিজাইনার প্রতিনিধি, এলজিইডির একজন প্রতিনিধি এবং মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রবিউল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইউসিসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ দুটি প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম সড়ক, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, প্রায় ১ দশমিক ৮ মিটার প্রশস্ত ফুটপাত, রেলিং ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কথা ছিল। তবে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দেবে যাওয়ায় নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মহানগরীর কাশিমপুর ৬ নং ওয়ার্ডের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় কয়েক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এমন অবস্থায় এলাকার রাস্তা প্রথমে ফাটল ধরে, পরে সেখানে ভেঙে কয়েক ফুট দেবে গেছে। এতে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
কাশিমপুর নামাবাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান সরকার বলেন, রাস্তাটি দুই সপ্তাহ আগে করা হয়েছে নিম্নমানের মালামাল সামগ্রী দিয়ে। কাজ করায় মাত্র দুই সপ্তাহ না যেতেই রাস্তাটি ধসে পড়ে গেছে। এত বড় একটা দুর্নীতি অনিয়ম হয়েছে এ রাস্তাটির কাজের ক্ষেত্রে অথচ দায়িত্ববান লোকেরা চুপচাপ রয়েছেন।
কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, নদীর পাড়ে রাস্তাটা হচ্ছে, এটা ন্যাচারাল ডিজাস্টার। পরিকল্পনার কোন ত্রুটিও থাকতে পারে।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব পায় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।