আইন-আদালত

চট্টগ্রামে মাদক মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন, একজন খালাস

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত একটি মাদক মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

দোষী সাব্যস্ত আসামিরা হলেন মো. আবুল হোসেন ও মো. মাইন উদ্দিন ওরফে মানিক। আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়।

তবে মামলার অপর আসামি মো. জয়নাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের ১৬ এপ্রিল। র‍্যাব-৭ এর একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতকানিয়া থানার আফজালনগর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি করে, ট্রাকের ক্যাবিনে লুকানো অবস্থায় ৩৮,৫৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে র‍্যাব। আটক ট্রাকচালক আবুল হোসেন এবং তার সহযোগী মাইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচার চলাকালীন মামলায় মোট ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং দুই আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলাকে শক্ত ভিত্তি দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু। রায় ঘোষণার পর তিনি বলেন, “এই রায় প্রমাণ করে যে সরকার ও আদালত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিরা সাজা পেয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এটি একটি বড় অর্জন। মাদকবিরোধী প্রচেষ্টায় এমন রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

আদালতের এই রায়কে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী মহল স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানে এই ধরনের কঠোর দণ্ড জনমনে সচেতনতা তৈরি এবং আইনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই মামলার রায় চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী আন্দোলন ও বিচারিক কার্যক্রমের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বায়ান্ন/একে

 



সম্পর্কিত খবর