বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি লাভ-লোকসানের চেয়ে বেশি কাজ করে জনগণের স্বার্থে। জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই আমরা ৩০০ টাকা দরে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদন করে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি করি।
গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুদিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে সুগার মিল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের প্রতিটি সুগার মিলের বয়স প্রায় ৫০-৬০ বছর, তবে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলটি শতবর্ষী। আমি এসব পরিদর্শন করে দেখতে পেলাম এখানকার বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি মান্ধাতা আমলের। আমরা ঠাকুরগাঁও চিনিকলসহ সব চিনিকলেই দর্শনার ‘কেরু অ্যান্ড কোং’-এর মতো বিএমআরই (পুনর্বাসন ও আধুনিকায়ন) উদ্যোগ নিয়েছি। এটি করার ফলে আমরা এই চিনিকলগুলোতে ডিস্টিলারি প্রজেক্ট চালু করাসহ চিনি থেকে উৎপাদিত উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) যেমন ইথানল, জৈব সার, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানা প্রকল্পে কাজ করতে পারব। তাহলে এই চিনিকলগুলো লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং চিনিকলগুলো চালু থাকলে অগণিত মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
মিল পরিদর্শনকালে তিনি মিলের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করেন এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন।
জানা যায়, ক্রমাগত লোকসানে থাকা সুগার মিলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে ধারাবাহিকভাবে করপোরেশনের আওতাধীন মিলগুলো পরিদর্শন করছেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ। এরই ধারাবাহিকতায় দুদিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের গেস্ট হাউসে পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর এবং ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আবু রায়হান।
এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) সাইফুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) নুরুল আমিন, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সুভাষ চন্দ্র সিংহ, ডিজিএম (সম্প্রসারণ) তাজিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি ও ঠাচিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খাঁন রতনসহ মিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শ্রমিক-কর্মচারীরা।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যানের এই সফর ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর।