জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা এবং চাকরিবিধি অমান্য করে একই কর্মস্থলে ২০ বছর ধরে চাকরি করছেন কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২০। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে অবস্থান করায় এলাকার স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে পড়েছে। সঠিক সময়মতো হাজিরা দিয়ে অফিসে না থাকা, সরকারি কাজে ফাঁকি দেওয়া এবং সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। অধিকাংশ কর্মচারীর বাড়ি দেবীগঞ্জে হওয়ায় তাঁরা প্রভাব বিস্তার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা যতক্ষণ অফিসে থাকেন, ততক্ষণ তাঁরাও থাকেন। তিনি বের হয়ে গেলে কর্মচারীরাও তাঁর পিছু পিছু বের হয়ে যান। এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) যে দিন অফিসে থাকেন না, সে দিন কর্মচারীদেরও দেখা মেলে না; কেবল হাজিরা দিয়েই চলে যান। অনেক সময় নিজেদের ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে আবার অফিসে ফেরেন। ফলে সেবাপ্রার্থীরা তাঁদের কাছে থেকে সময়মতো সেবা পান না।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শাহজাদা হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি একই কর্মস্থলে রয়েছেন। বাড়ি স্থানীয় এলাকায় হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করে তিনি এখানে চাকরি করছেন।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) রহমতুল্লাহ ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পদে যোগ দেন। চাকরির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ১৮ বছর ধরে তিনি একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির আরেক কর্মী নেয়ামত উল্লাহ ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর যোগদান করে প্রায় ১৮ বছর ধরে দেবীগঞ্জেই কর্মরত আছেন।
একই দিন (২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর) যোগদান করেন আরেক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) মাহমুদ উন নবী। তিনিও চাকরির শুরু থেকে ১৮ বছর ধরে এখানেই অবস্থান করছেন।
সিনিয়র স্টাফ নার্স মমতা সূত্রধর দেবীগঞ্জে যোগ দেন ২০১০ সালের ১৯ জুলাই। তিনি ১৬ বছর ধরে চাকরি করছেন এখানে।
সহকারী সেবক হিসেবে সুশীল কুমার দাস যোগ দেন ১৯৯৪ সালের ১২ এপ্রিল। ৩২ বছর ধরে দেবীগঞ্জেই রয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্ডিওগ্রাফার তৌহিদুল ইসলাম যোগ দেন ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর। চাকরির শুরু থেকেই (১৫ বছর) তিনি এই কর্মস্থলে আছেন।
ইমারজেন্সি অ্যাটেনডেন্ট সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বরে চাকরিতে যোগ দেন। তখন থেকে গত ১৫ বছর ধরে তিনি দেবীগঞ্জেই কাটিয়ে দিলেন।
ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট মোমিনুর রহমান ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর যোগ দিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।
ভান্ডার রক্ষক একরামুল হক ২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট যোগ দেন। প্রায় ২২ বছর ধরে দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছেন তিনি।
অফিস সহায়ক রশিদুল ইসলাম ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই যোগ দিয়ে ১২ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন।
নার্সিং সুপারভাইজার শিউলি আক্তার ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যোগ দিয়ে ১৩ বছর ধরে দেবীগঞ্জে আছেন।
সিনিয়র স্টাফ নার্স শিল্পী খাতুন দেবীগঞ্জে যোগ দেন ২০১৩ সালে। তিনি ১৩ বছর ধরে চাকরি করছেন। (আরেকজন) সিনিয়র স্টাফ নার্স শিল্পী খাতুন দেবীগঞ্জে যোগ দেন ২০১৬ সালে; তিনি ১০ বছর ধরে দেবীগঞ্জে কর্মরত।
সিনিয়র স্টাফ নার্স নুরী আক্তার ২০১৩ সালে যোগ দিয়ে ১৩ বছর ধরে দেবীগঞ্জে চাকরি করছেন।
সিনিয়র স্টাফ নার্স শামীমা আক্তারও ২০১৩ সালে যোগ দিয়ে ১৩ বছর ধরে এখানেই আছেন।
সিনিয়র স্টাফ নার্স দিলরোজ আক্তার ২০১৬ সালে যোগদান করে ১০ বছর ধরে দেবীগঞ্জে রয়েছেন।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “নার্সদের বদলির বিষয়টি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর করে থাকে। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাঁদের বদলির বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিসের কোনো হাত নেই।”