ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস টোল প্লাজায় দুর্নীতিও অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে।
যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলো ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম ধাপের ১৮ কিলোমিটার উড়াল সেতু। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সংযোগস্থল গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস থেকে মদনপুর সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে এই অংশে কোনো ইউ টার্ন থাকছে না।
ভোগড়া বাইপাস ফ্লাইওভারে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নামে পুলিশ কর্তৃক জোরপূর্বক গাড়ী ওঠানো এবং টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগগুলো দীর্ঘদিনের।
চালকরা অনেক সময় নিচের রাস্তা ব্যবহার করতে চাইলেও পুলিশ লাঠি হাতে বা সরাসরি সিগন্যাল দিয়ে ফ্লাইওভারের দিকে পাঠিয়ে দেয়।
আইন না মানলে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ী আটকায় বা রেকার লাগানোর ভয় দেখায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় যে, রেকার লাগানোর ফাঁকে বা আইন ভঙ্গের অজুহাতে অনেক সময় পুলিশ চালকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
ট্রাক, বাস, মিনি পিকআপ, সিএনজি চালকরা অনেক সময় ফ্লাইওভারের ওপর উঠতে চান না কারণ এটি তাদের গন্তব্য থেকে দূরে নিয়ে যায়, কিন্তু পুলিশ জোরপূর্বক তাদের ওপরের লেনে পাঠায়।
ড্রাইভার এবং হেলপারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জোরপূর্বক ফ্লাইওভারে গাড়ী উঠানোর নামে এবং গাড়ীর বিভিন্ন ভুলত্রুটি মাধ্যমে রেকার বিল করবে বলে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। তারা আরো জানান, গাড়ী রাস্তার বাহিরে সাইট করে ওয়াশরুমে গেলে এবং চা দোকান ও খাবার হোটেলে খেতে গেলে ট্রাফিক পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং বিনা কারণে মামলা টাকা নিয়েও হয়রানি হতে হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ফ্লাইওভার করাতে আমাদের ড্রাইভার হেলপারদের যেমন সুবিধা হয়েছে ঠিক তেমনি অসুবিধা হয়েছে। আমরা কেউ কাঞ্চন যাব, কেউ আবার মীরের বাজার যাব, কেউ আবার মীরের বাজার হয়ে পুবাইল যাবো। আমাদের ফ্লাইওভারে উঠে কী লাভ, উঠতে না চাইলে ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে ফ্লাইওভারে উঠায়। বড় ট্রাক, বাস টোল খরচ ৬১০ টাকা, ১৪ চাকা ট্রেইলার ৮২০ টাকা, মিনি পিকআপ ২৬০ টাকা, প্রাইভেট কার ১৪০ টাকা, হয়তো দেখা যায় আমাদের কারো কাছে টাকা থাকে না। তখন বাধ্য হয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা এনে পেমেন্ট করতে হয়। এটা আমাদেরকে ট্রাফিক পুলিশ সম্পূর্ণ হয়রানি করতেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাত-দিন ২৪ ঘন্টা একদল ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছে। জন সম্মুখে প্রশ্ন হলো, ফ্লাইওভারের উপরে জোরপূর্বক ভাবে গাড়ী উঠানোর দায়িত্ব কে দিয়েছে?
বেস পকেটে লুকিয়ে রাখে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাফিক পুলিশের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে গাড়ী গেলে টাকা খেয়ে গাড়ী ছেড়ে কেন? এটা কতটুকু সত্য_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ফ্লাইওভারের গাড়ী উঠানোর নির্দেশ পেয়েছি। টাকার বিষয়টা এড়িয়ে তিনি চলে যান।
ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম, একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার, একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।