খুলনা

ঝিনাইদহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

ঝিনাইদহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিলকিস আফরোজের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দিবস উদযাপনের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে না করা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়ম এবং অধীনস্থ কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক যুব দিবস। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। এই অনুষ্ঠানের জন্য সরকারিভাবে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রায় সব টাকা আত্মসাৎ করেছেন বিলকিস আফরোজ। আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া ৮০ জনের জন্য সামান্য নাশতা দেওয়া হয়, যার সর্বোচ্চ খরচ ৫ হাজার টাকা। বাকি টাকার কোনো হিসাব দেননি অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রশিক্ষণের জন্য ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। সেই প্রশিক্ষণের টাকাও ঠিকমতো ব্যয় করা হয়নি। নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে বেশিরভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বিলকিস আফরোজ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে খাল খনন কর্মসূচীতেও অনিয়ম করেন তিনি। নামমাত্র পরিষ্কার করে ব্যয়ের হিসাব দেখান তিনি।

অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন, তবে এপ্রিল মাস পর্যন্ত নানা অজুহাতে নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ৪টি।*

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, অফিসের বিভিন্ন কাজে নিয়মনীতি অনুসরণ না করে একক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেউ এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। অধীনস্থ কর্মচারীদের সঙ্গে প্রায়ই অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।

অভিযোগের বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিলকিস আফরোজ বলেন, “বরাদ্দের সকল কাজ সঠিক নিয়মে করা হয়েছে। কোনো প্রকার অনিয়ম করা হয়নি।”

 


সম্পর্কিত খবর