জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও জলবায়ু বিষয়ক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিসার্চ (৩সিএসআর)-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা” শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে মানব সভ্যতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব মোকাবিলায় শুধু নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নয়, বরং সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি বৃক্ষ রোপণ মানে কেবল একটি চারা মাটিতে স্থাপন করা নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মল বাতাস, নিরাপদ পরিবেশ এবং একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ উদ্যোগকে সফল করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রযুক্তি ও প্রকৃতির মধ্যে সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (আইডাব্লিউই)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আকরামুল আলম।
৩সিএসআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, প্রভোস্ট, অফিসপ্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।