গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক করণের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)। মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি কে বাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর উপলক্ষে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ডুয়েটের সভাকক্ষে এক অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমিক জ্ঞান বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা আরও আধুনিক, কর্মমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপাচার্য আরও বলেন, এ অংশীদারত্ব কেবল শিক্ষক- শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক যৌথ যাত্রার সূচনা করবে। ভবিষ্যতের উদ্ভাবনী ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে এ এমওইউ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ডুয়েটের উপ- উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ডুয়েট ও ইউকেএম-এর যৌথ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং ইন্ডাস্ট্রি- একাডেমিয়া সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে দক্ষ ও বৈশ্বিক মানের মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে। আলোচনায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত এমওইউ’র আওতায় যৌথ একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা, সমন্বিত গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ, শিক্ষক- শিক্ষার্থী- গবেষক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন, পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ। ইউকেএম-এর পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন স্পেস সায়েন্স সেন্টারের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ ইকবাল ফারুক।
উল্লেখ্য, মেডিসিন ও হেলথ সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিল্ট এনভায়রনমেন্ট, ইকোনমিক্স ও ম্যানেজমেন্ট এবং আইটি ও সায়েন্স বিষয়ে ইউকেএম মালয়েশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুপরিচিত। ডুয়েটের সঙ্গে এ সম্ভাব্য একাডেমিক সহযোগিতা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।