খুলনা

তিন দিনে বেনাপোলে ৩৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়: তলানিতে আমদানি-রপ্তানি ও যাত্রী পারাপার

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে গত তিন দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছেন। একই সময়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়েছে মোট ৯৬১ ট্রাক। এতে ভ্রমণ ও বাণিজ্য খাত থেকে সরকারের প্রায় ৩৯ কোটি টাকা (৩৮ কোটি ৮৫ লাখ) রাজস্ব আয় হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ভিসা জটিলতায় এই হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন গত তিন দিনের (১২-১৪ জানুয়ারি) বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াতের এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন।

 

বন্দর ও ইমিগ্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ভারত থেকে ৭৯০ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে এবং দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ১৭১ ট্রাক পণ্য। আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় রয়েছে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, রাসায়নিক দ্রব্য, তুলা, শিশু খাদ্য, অক্সিজেন ও বিভিন্ন পচনশীল পণ্য। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ছিল টিস্যু, মেলামাইন ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। তবে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় পাটজাত পণ্য ও আসবাবপত্র এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কড়াকড়িতে সুতাসহ কিছু পণ্যের বাণিজ্য বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

 

বেনাপোল ইমিগ্রেশন জানায়, তিন দিনে মোট ২ হাজার ৬২৪ জন ভারতে গেছেন এবং ফিরেছেন ১ হাজার ৮৮২ জন। ভিসা প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও কড়াকড়ির কারণে সাধারণ সময়ের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বাণিজ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

 

রেলপথে বাণিজ্যের বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, বর্তমানে রেলপথে শুধুমাত্র ট্রাক্টর আমদানি করা হচ্ছে। এছাড়া ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধন এক্সপ্রেসের মাধ্যমে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও দীর্ঘ দিন ধরে স্থগিত রয়েছে।

 



সম্পর্কিত খবর