দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ (১৭ বছর) পর অবশেষে কারামুক্ত হয়েছেন পটুয়াখালীর বাউফলের কালিশুরি ইউনিয়নের কর্পূরকাঠি গ্রামের মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি ২০০৯ সালের বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কারাবন্দী ছিলেন। গতকাল বুধবার (১৫ অক্টোবর, ২০২৫) তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে তাঁর নিজ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়—দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয়জনদের মাঝে ফিরে পরিবারের সঙ্গে মুক্ত বাতাস উপভোগ করছেন মনজু। তাঁর বাড়িতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় জমাচ্ছেন তাঁকে এক নজর দেখার জন্য।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কারামুক্তির পর থেকেই তাঁর খোঁজখবর নিচ্ছেন বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন তিনি। সকালে ড. মাসুদের পক্ষ থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ফুলের তোড়া ও মিষ্টি নিয়ে গিয়ে মনজুরুলকে শুভেচ্ছা জানান।
আবেগঘন কণ্ঠে মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু (৫৫) বলেন, “আমি দীর্ঘ ১৭ বছর কারাগারে ছিলাম। জেলখানায় আমার সহবন্দী ছিলেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি তখনও আমার পাশে ছিলেন, আজও আছেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি বারবার ফোন করে আমার খোঁজ নিয়েছেন—আমি খেয়েছি কিনা, টাকার প্রয়োজন আছে কিনা, পরিবার কেমন আছে—সব জানতে চেয়েছেন। আজ যখন তাঁর পক্ষ থেকে ফুল ও মিষ্টি পেলাম, সত্যিই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। একজন জাতীয় নেতা আমার জন্য এত কিছু করবেন—এটা ভেবে গর্ব অনুভব করি। আল্লাহ যেন তাঁকে উত্তম প্রতিদান দেন, এই প্রার্থনা করি।”
তাঁর ছোট কন্যা শাহানা আক্তার মনি (২০) বলেন, “গতকাল রাতে লঞ্চে বাবার সঙ্গে ছিলাম। তখনই একটি ফোন আসে—বললেন, ‘আমি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আপনার বাবার জেল পার্টনার।’ এত বড় একজন মানুষের ফোন পেয়ে আমি অবাক হয়ে যাই। পরে বাবা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন, দুজন অনেক স্মৃতিচারণ করেন। সকালে আবার দেখি, তাঁর পক্ষ থেকে ফুল ও মিষ্টি নিয়ে লোকজন হাজির! আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
এ সময় ফুল ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খালিদুর রহমান, ছাত্রশিবির নেতা হাফেজ আবদুল আউয়ালসহ স্থানীয় জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।