টাঙ্গাইলের নাগরপুর-পাকুটিয়া রুটে দীর্ঘদিন ধরে ছায়ার মতো ভর করে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দৌরাত্ম্য অবশেষে বন্ধ হলো। সম্প্রতি পাকুটিয়া এলাকায় 'এসবি লিংক' বাসের চাপায় এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ জনতার চাপের মুখে এবং প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্তে রুটের এই পরিবহনটির চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে।
যাত্রীদের কাছে 'ঝুঁকির প্রতীক' নামে পরিচিত এই পরিবহনটি রুট পারমিটবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ এবং অদক্ষ চালক দ্বারা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করত—যা প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী সংযোগের কারণেই এতদিন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর হতে পারেনি।
স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ জনতা বাসে ভাঙচুর চালায় এবং 'এসবি লিংক' বন্ধের দাবিতে এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত মোহাম্মদ নোমান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ফিটনেসবিহীন ও অনুমোদনবিহীন কোনো গাড়ি আর নাগরপুর-পাকুটিয়া রুটে চলতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে প্রশাসনকে অবগত করে গতকাল রাতে 'এসবি লিংক'-এর মালিকপক্ষ বাসস্ট্যান্ড ফাঁকা করে সব গাড়ি ঢাকায় সরিয়ে নিয়েছে।
নাগরপুর উপজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. লোকমান হোসেন বলেন, "ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা হয়েছে এবং আমাদের কিছু শর্ত মেনে বাস পুনরায় চালানোর চেষ্টা করা হবে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—'এসবি লিংক' নামে কোনো বাস আর চলবে না। বর্তমানে নাম পরিবর্তন করেও তাৎক্ষণিকভাবে বাস চালানো সম্ভব নয়।" বাস বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কষ্ট হবে, সে কথা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নাগরপুর উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিজ উদ্দিন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "এই গাড়িগুলো সম্পূর্ণ ফিটনেসবিহীন ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চলত। আমি চাই, নতুন গাড়ি নির্বাচনের সময় ভালো মানের পরিবহন বাছাই করা হোক, যেন সাধারণ জনগণ আর কষ্ট না পায়।"
ইউএনও আরাফাত মোহাম্মদ নোমান বলেন, "নাগরপুরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত দিয়েছি—প্রতিটি গাড়ির ফিটনেস নবায়ন, চালকের ডোপ টেস্ট, সিসিটিভি স্থাপন ও যাত্রী তালিকা সংরক্ষণ। কেউ নিয়ম ভাঙলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে।"
'এসবি লিংক' বন্ধ হওয়ার ঘটনা একদিকে যেমন প্রশাসনের দৃঢ় পদক্ষেপের পরিচায়ক, অন্যদিকে এই রুটে পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থারও প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযান কতটা স্থায়ী হয় এবং নাগরপুরবাসী কবে নাগাদ একটি নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা পায়।