দেশের খবর

দুই জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত

নেত্রকোনা ও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন ।নেত্রকোনায় মদনপুর মাজারে যাওয়ার পথে ট্রাক-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের আহত হয়েছেন। তাদেরকে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। 

 

বৃহস্পতিবার বিকালে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের পূর্বধলা উপজেলাধীন নারান্দিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি সারবাহী ট্রাকের সাথে নেত্রকোনাগামী একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পিকআপে গবাদিপশুসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নারীসহ দু’জন নিহত হন। 

 

এসময় আহত আরও তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পথে আরও দু’জন মারা যান। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত সবার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ময়মনসিংহের চৌরাংগির মোড়ের আব্দুল গফুর (৫০) নামের বাবুর্চি পরিচয় একজন নিহত হয়েছেন। শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

 

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই সড়কের মাঝখানে আড়াআড়িভাবে ট্রাক পিকআপ পড়ে থাকায় সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রোগী নেওয়া অ্যাম্বুলেন্সও যাওয়া-আসা করতে পারছে না। খবর পেয়ে নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এরই মধ্যে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক থেকে সার উদ্ধার করে সড়কের পাশে রাখা হয়েছে।   নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, পিকআপ ভ্যানটিতে গবাদিপশুসহ বেশ কয়েকজন ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা পিকআপে করে মাজারে যাচ্ছিলেন।   এদিকে : কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ার খুটাখালীতে লেগুনা ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন পাঁচজন।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চকরিয়া থানার খুটাখালী নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সামশুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন-চকরিয়ার খুটাখালী সেগুনবাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ফুলছড়ি শিয়াপাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭), ঈদগাঁও উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮) এবং আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নোয়াখালী সদর থেকে ছেড়ে আসা লাল সবুজ পরিবহনের একটি বাস কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে ঈদগাঁও থেকে যাত্রী নিয়ে একটি লেগুনা চকরিয়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে খুটাখালীর নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে গাড়ি দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এসময় বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর  লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে লেগুনার যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে শাহেদ, রফিক ও জিয়াবুলের মৃত্যু হয়। পরে মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জসিম উদ্দিন। মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 



সম্পর্কিত খবর