বাঁশখালীর উপকূলীয় উত্তর সরল এলাকায় অন্তত ১৬টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার রাতে ওই এলাকায় কোস্টগার্ডের অভিযানের পর বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ভোরে প্রতিপক্ষের লোকজন মুখোশ পড়ে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভাংচুর করে এই হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার রাতে উপকূলীয় উত্তর সরল এলাকায় কোস্টগার্ড অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের এই সুযোগ পুরুষ শুন্য অন্তত ১৬টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষরা। এতে ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন, হোসন আহমদের ছেলে হারুন ও ফোরকান, মৃত সৈয়দ আহমদের ছেলে জিয়াউর রহমান সওদাগর, মৃত নওশা মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম ও মোস্তফা আলী, আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল, কামরুল ইসলামের ছেলে প্রবাসি আনোয়ার হোসাইন, বকলম মিয়ার ছেলে আবু তাহের, মৃত আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে নজরুল ইসলাম মানিক, মৃত রমজান আলীর বিধবা স্ত্রী মিনুয়ারা বেগম, দলিলুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ কাদের, মৃত শামসুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ মানিক, আবদুল মান্নান, আবদুর রহিম ও আবদুল গফুর এবং মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে আবু নছর চৌধুরীর পরিবার।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে কোস্টগার্ডের সদস্যরা উত্তর সরল এলাকায় অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে আতংকিত ওই এলাকায় মুখোশ পরে প্রতিপক্ষ কবির, কমির উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, জমির, সেলিম প্রকাশ এটিএম ও এমদাদ উল্লাহর নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক লাঠিসোটা ও অস্ত্রধারী লোকজন পূর্ব থেকে লবণমাঠ নিয়ে বিরোধ থাকা লোকজনের বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ ১৬টি বসতবাড়ি থেকে ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে।
প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুল্লাহ, নুরুল কাদের, আবু তাহের ও আবদুস সালাম জানান, এলাকায় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের আগে প্রতিপক্ষরা সরল নতুন বাজারের ১৫টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাংচুর করে। এসময় তারা সাংবাদিকদের সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করেন।
বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, উত্তর সরল এলাকায় কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে অস্ত্রসহ আটক করেছে। অভিযানের আগে পরে সেখানে প্রতিপক্ষরা হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা হবে।