মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতাসীন হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং এ বিষয়ে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর নির্ভর করতে চান।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মোদি ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আগে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা ছিল কি না এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আমলেও তা অব্যাহত থাকবে কি না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এ ক্ষেত্রে আমাদের ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা ছিল না। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং সত্য বলতে শত শত বছর ধরে এটি নিয়ে কাজ চলছে। তবে আমি এ প্রশ্নের উত্তর প্রধানমন্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।”
ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলতে তিনি নরেন্দ্র মোদিকে বুঝিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মোদি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি এবং সংবাদ সম্মেলনেও এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।
এর আগে, ৩১ অক্টোবর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা নিয়ে এক বার্তা পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দলবদ্ধ হামলা ও লুটপাটের কারণে দেশটি এখন সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রয়েছে।” তার এই মন্তব্যের পাঁচ দিন পর, ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এর ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন যে, সরকার পতনের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন কলকাঠি নেড়েছে। তবে বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর নতুন করে বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি, তবে মোদির নীরবতা এবং ট্রাম্পের মন্তব্য বেশ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
বায়ান্ন/এএস/এসবি