বান্দরবান পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগের নবনিযুক্ত ডেপুটি রেঞ্জার মো. তাজুল ইসলামকে ঘিরে দুই মাসের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও লোভনীয় পদে দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই কর্মকর্তার বারবার গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং পাওয়া নিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মো. তাজুল ইসলাম প্রথমে চেমী রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিছুদিন পর তিনি বনমামলা পরিচালক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসারের দায়িত্ব পান। অল্প সময়ের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে দায়িত্ব পাওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, তাজুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লায় হওয়ায় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে তিনি সদর রেঞ্জের দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি এ পোস্টিংয়ের পেছনে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে অর্ধকোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলের দায়িত্বে অল্প সময়ের মধ্যে বারবার পদায়ন এবং এর পেছনে কথিত প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এদিকে সদর রেঞ্জের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাজুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে কাঠ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে তিনি স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে কাঠ পরিবহনের প্রচলিত রেট পরিবর্তন করে নতুন ‘ডিজিটাল রেট’ নির্ধারণ করেছেন। নতুন রেট ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে-এমন অভিযোগ তুলে কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। কাঠ পরিবহনের টিপি-সংক্রান্ত কার্যক্রমও কয়েক দিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বন বিভাগের দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। তবে নতুন রেট নির্ধারণের বিষয়টি কী প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই না করে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। একইভাবে ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম বন্ধের সঙ্গে তাজুল ইসলামের সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়। অভিযোগ রয়েছে, তাজুল ইসলামের দ্রুত পদায়ন এবং তার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে বন বিভাগের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পাড়াবন ও পাহাড়ি এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুই মাসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি, পোস্টিংয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, কাঠ পরিবহনের নতুন রেট নির্ধারণ এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তারও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান হওয়া জরুরি। এই বিষয়ে বক্তব্য নিতে তাজুল ইসলামকে ফোন করা তিনি রিসিভ করেনি।