ভারতে দালালের খপ্পরে পড়ে এক থেকে দুই বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ৪৭ জন নারী ও পুরুষ। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিএসএফ সদস্যরা বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির কাছে তাঁদের হস্তান্তর করেন। তাঁরা ভারতের পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাবরণ করেন। সেখান থেকে ভারতের একটি বেসরকারি সংস্থা তাঁদের ছাড়িয়ে এনে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে।
ফেরত আসারা হলেন— আজিজুর রহমানের ছেলে আশিক শিকদার (২৭), দেলোয়ারের ছেলে তাজুল ইসলাম (২৯), মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে জীবন মিয়া (২৯), দুদু মিয়া পাইকের ছেলে সুজন মিয়া (২৪), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে জাকির মন্ডল (২৫), আব্দুল গাজীর ছেলে নাজির গাজী (৩১), মৃত আব্দুল বাকীর ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৩৬), মজিব ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাকিব (২৮), চাঁদ আলমের ছেলে কামরুজ্জামান কাজল (৩৪), আলাউদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম আলী (৩২), মহসিনের ছেলে মাসুদ মিয়া (২৪), চন্দ্রা গাইনির ছেলে পলিন গাইনি (৩২), সালাম খাঁয়ের ছেলে রহিম (২৩), নূর আলীর ছেলে রুহুল ইসলাম (৩২), আবুল হোসেনের ছেলে জালাল উদ্দিন (২৫), নূর ইসলাম সর্দারের ছেলে ইসমাইল (৩১), খোরশেদ আলমের ছেলে মাহরুপ বিল্লাহ সর্দার (৩১), খোরশেদ আলমের ছেলে ইসমাইল হোসেন (২১), আলমগীর মোল্লার ছেলে জীবন মোল্যা (৩২), সুলতান আলীর ছেলে সান্টু আলী (৩২), আলমগীর সরকারের ছেলে নাঈম সরকার (২৩), সুরুজ মিয়ার মেয়ে তহমিনা (২৬), আবু হাসানের মেয়ে মোছা. মরিয়ম (২৫), বেলাল হোসেনের মেয়ে রাতুল খান (২৪), আব্দুল হোসেনের ছেলে আবু ইউসুফ (২৭), মৃত বাচ্চা মিয়ার ছেলে আনোয়ার (৩০), দীন ইসলামের ছেলে রফিজ (২৬), অথৈ আলীর ছেলে শহিদ প্রামাণিক (৩২), মৃত জুলিয়াস হোসেনের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (২৪), নূর কবিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩২), আব্দুল জাব্বারের ছেলে আসাদউজ্জামান (৩১), আব্দুল মান্নানের ছেলে ইয়াসিন মিয়া (২৫), আব্দুল সাত্তারের ছেলে ইকবাল হোসেন (২৩), বাবুল হাসানের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩২), রুনাছং রানার ছেলে দিলীপ রানা (২৫), কুদ্দুস মোল্লার ছেলে শাহীন মোল্যা (৩৪), রেহাজুল ইসলামের ছেলে মাসুম বিল্লাহ সুমন (৩২), মো. ইব্রাহীমের ছেলে ইমরান হোসেন (৩৪) ও রাউল সরদারের ছেলে জেসান সরদার (৩২)। তাঁদের সকলের বাড়ি নড়াইল, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ঢাকা ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, এক থেকে দুই বছর আগে ভালো কাজের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে তাঁরা ভারতে যান। পরে সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হন। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষে তামিলনাড়ুর সালেমের আত্তূর ও ত্রিচি ক্যাম্প নামের একটি বেসরকারি শেল্টার হোমে তাঁদের আশ্রয় হয়। এরপর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের পর ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁরা দেশে ফিরে আসেন। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁদের বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হবে। পরে থানা থেকে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি, রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের তিনটি এনজিও সংস্থা তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
ফেরত আসাদের গ্রহণকারী যশোর মহিলা আইনজীবী সমিতির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর রেখা বিশ্বাস জানান, থানা থেকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরত আসাদের তাঁদের নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাঁদের স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।