নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় ভুয়া এনটিআরসিএ সনদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ, অর্থ বাণিজ্য এবং অপপ্রচারের অভিযোগে পাঁচজন অধ্যক্ষ ও সুপারের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪-১৫ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেন মনোহরদী উপজেলা প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক কাজী শরিফুল ইসলাম। বাদীপক্ষের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট পুনম সরকার এবং ঢাকা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার সজল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া এনটিআরসিএ সনদ ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছিলেন। এসব নিয়োগে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন—মনতলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. বাকিউল ইসলাম, কোচের চর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার কামাল উদ্দিন, টিকিউ বালিকা মাদ্রাসার সুপার এমারত হোসাইন, শেখেরগাঁও জেড ইউ ফাজিল মাদ্রাসার সুপার একলাছ উদ্দিন এবং চন্দনবাড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু রায়হান ভূঁইয়া।
বাদী কাজী শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছেন। তার অনুসন্ধানে দেশে প্রায় ৬০ হাজার ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের তথ্য উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে তিনি ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর এনটিআরসিএ এবং ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের ১ জুন ২৬ জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের ইনডেক্স বাতিল করা হয় এবং তাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উত্তোলিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একাধিক শিক্ষক ভুয়া সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া সারাদেশে প্রায় ৫০০ জন এবং মনোহরদী উপজেলায় প্রায় ১০০ জন ভুয়া শিক্ষক শনাক্ত হয়ে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব অনিয়ম প্রকাশের পর অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালায়। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর একটি মানববন্ধনের মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হয় এবং তা ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাদীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং তাকে পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।