খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা পৌরসভার ১০নং ইসলামপুর দারুল উলুম মাদ্রাসায় ১২ বছরের এক ছেলে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মাও: আবদুল কাদের গাজী, তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় জানা গেছে। তিনি এপেশার পাশাপাশি মাদ্রাসায় বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ১০নং ইসলামপুর দারুল উলুম হেফজ ও এতিমখানা মাদ্রাসার দ্বিতীয় ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম( ১২) সে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সিলেটি পাড়ার বাসিন্দা দিন মুজুর সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ভুক্তভোগী জানায়, ঈদের ছুটিতে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় সে বাড়িতে ছিলো, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজ পড়তে মসজিদে আসার পর অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে রাতে বিরিয়ানি খাওয়ানোর কথা বলে মাদ্রাসায় থাকতে বলেন।
ওই শিক্ষার্থী থাকতে অনীহা প্রকাশ করলে, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে থাকতে বাধ্য করেন সহকারী পরিচালক আব্দুল কাদের গাজী। রাতে খাবার শেষে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই রান্নাঘরের পাশে একটি কক্ষে নিয়ে তাকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন।
শিক্ষার্থী আরও জানায়, শিক্ষককে থামাতে না পেরে কৌশলে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সে দৌড়ে পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়। গিয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক রাতেই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান।
মাজহারুল ইসলামের মামা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতিপূর্বে এ মাদ্রাসায় আমার ছেলের সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ মাদ্রাসার শিক্ষক আমার ছেলের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে এলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারতে আসেন এলাকার সর্দার। তখন এলাকার মাতব্বরের ভয়ে কেউ মুখ খুলেনি। আমরা গরিব তাই বিচার পাইনি।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, আমার ভাইয়ের ছেলের সাথেও এমন ঘটনা ঘটেছে এ মাদ্রাসায়। এখন নিজের ছেলের সাথেও অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক কাজ করতে চেয়েছেন মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আব্দুল কাদের গাজী। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
স্থানীয়দের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানে বারবার একই ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কোন এক অদৃশ্যের কারনে অভিযুক্তরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। যা এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ২৭ মার্চ শুক্রবার দিনভর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন মাদ্রাসার পরিচালক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতা মাওলানা আক্তারুজ্জামান ফারুকী।
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আক্তারুজ্জামান ফারুকী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, মাদ্রাসা কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিযুক্ত শিক্ষককে হাজির করার জন্য চার দিন সময় দিয়েছেন। এরপর বিষয়টি সমাধান করা হবে। তবে তিনি ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রচার না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মাটিরাঙা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহেদ উদ্দিন জানান, এই বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।