ঢাকা

মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি: দুই দিন পর তিনজনের লাশ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার ভোরে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ঘাট এলাকায় লাশ ভেসে উঠলে নৌপুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় সেগুলো উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—সামিয়া (১৯), সজীব (২২) ও শিশু শামীম (৬)। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তাদের বাবা মো. হেলাল (৪৫)।

সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে প্রথমে সামিয়ার মরদেহ বৈদ্যেরবাজার ঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে ভেসে ওঠে। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর একই এলাকা থেকে সজীব ও শিশু শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক পিপিএম জানান, মো. হেলালকে উদ্ধারে নদীতে নৌপুলিশ এবং নদীর তীরে থানা-পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি বলেন, উদ্ধার হওয়া তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ কারণে মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি। দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটি উদ্ধার করে নৌপুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমদ্দি গ্রামের তিতাস নদীর পাড় থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে ১৩ জন স্বজন সোনারগাঁয়ের উদ্দেশে রওনা হন। তারা সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ট্রলারে দুটি গরু, একটি ছাগল ও বিয়ের বাজার সদাই ছিল।

দুপুরের দিকে ট্রলারটি সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে মেঘনা নদীতে পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে। তীব্র বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি উল্টে যায়। এতে যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় মাঝিসহ আটজন তীরে উঠতে সক্ষম হলেও একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ হন। এর আগে মো. হেলালের ফুপু রায়েশা বেগমের (৫৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

নিখোঁজদের উদ্ধারে বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান চালানো হয়। রাত ৩টা পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর সেদিনের মতো অভিযান স্থগিত করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে ডুবুরি দল, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। অভিযানে বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধিরাও যুক্ত হন।

মরদেহ উদ্ধারের পর শনিবার সকালে সামিয়া ও তার দুই ভাই সজীব এবং শামীমের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সামিয়ার মরদেহ তার শ্বশুরবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে দাফন করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার দুই ভাই সজীব ও শিশু শামীমকে কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমদ্দি গ্রামে দাফন করা হয়।

একই পরিবারের চারজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এবং এখনো মো. হেলালের নিখোঁজ থাকার ঘটনায় হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামসহ পুরো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের মধ্যে চলছে শোক ও আহাজারি।

এ ব্যাপারে হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ যৌথভাবে নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় থানা-পুলিশ ও স্থানীয়দের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নিখোঁজ হেলালকে না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির প্রতি সরকারি নিয়মানুযায়ী সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। নিহত পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনের সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে মো. হেলালকে উদ্ধারে মেঘনা নদী ও তীরবর্তী এলাকায় নৌপুলিশ ও থানা-পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।



সম্পর্কিত খবর