আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ইরান

তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে হরমুজ প্রণালির স্থলভাগ, জলতল ও আকাশসীমার ওপর ইরান ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রেখেছে বলে দেশটি জানিয়েছে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ আকবরজাদেহ ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া মন্তব্যে বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে এক ইঞ্চিও পিছু হটা হবে না, এবং ইরান এগিয়ে যাবে।’ আকবরজাদেহ বলেন, এই কৌশলগত জলপথের ব্যবস্থাপনা ‘প্রচলিত পদ্ধতির গণ্ডি পেরিয়ে সম্পূর্ণ বুদ্ধিমান ব্যবস্থায়’ রূপ নিয়েছে, যার ফলে সামুদ্রিক, ভূপৃষ্ঠ ও জলতলের সব ধরনের চলাচলের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন পতাকাবাহী জাহাজগুলো প্রণালি দিয়ে পার হতে পারবে কি না—সে সিদ্ধান্তও ইরানই নিয়ন্ত্রণ করে।’

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি চায় না,’ তবে একই সঙ্গে যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ‘নিজেরা যে যুদ্ধ শুরু করবে, তা থেকে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না।’ আকবরজাদেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থলভাগ, আকাশসীমা বা জলসীমা যদি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেগুলোকে ‘বৈরী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, ‘এই বার্তা ইতিমধ্যে আঞ্চলিক পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’ ইরানি এই কমান্ডার আরো বলেন, তেহরানের কাছে অতিরিক্ত সক্ষমতা রয়েছে, ‘যা উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করা হবে।’ পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ক্ষেত্রে এই পথ দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং মোট বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয়।

 

হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন পরিবাহিত প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্যের বড় অংশ এশীয় বাজারে পৌঁছে, যার প্রধান গন্তব্য চীন। ইরানের তেলের একটি বড় অংশও এই জলপথ ব্যবহার করে চীনে রপ্তানি হয়। ইরাকের প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথে পরিবাহিত মোট তেলের মধ্যে সৌদি আরবের অংশ ৩৫ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০ শতাংশ এবং ইরাকের ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ ব্যবহার করে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন জানিয়েছে, তেহরানের বিষয়ে সামরিক পদক্ষেপসহ সব বিকল্প এখনো বিবেচনায় রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব হবে ‘দ্রুত ও সর্বাত্মক’।

 



সম্পর্কিত খবর