জাতীয়

যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান: সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনীর সফল অভিযান অব্যাহত

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশব্যাপী পেশাদারিত্বের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় গত ২০ থেকে ২৬ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে।

এ সকল অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর নিবিড় প্রচেষ্টার ফলে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, একাধিক মামলার আসামি, ডাকাত দলের সদস্য, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য, জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামি এবং মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ২৮০ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- 

*১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র

* ১৪৩টি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ

* ককটেল বোমা ও অন্যান্য বিস্ফোরক

* বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য

* সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহৃত দেশি-বিদেশি অস্ত্র

* চোরাই মোবাইল ফোন, ট্যাব, সিমকার্ড ও পাসপোর্ট

* স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ

* যানবাহন ও যন্ত্রপাতি: ট্রলার, মোটরসাইকেল, ট্রাক, ড্রেজার, ভেকু, এক্সক্যাভেটর, ডাম্পার

আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযানের পাশাপাশি ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে যানজট নিরসন ও টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে সেনাবাহিনী বিশেষ টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য প্রদান করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই নিরলস প্রচেষ্টায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশবাসীর সহযোগিতা পেলে অপরাধ দমনে আরও উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

 

বায়ান্ন/এএস



সম্পর্কিত খবর