জাতীয়

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে লাগা ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ চার ঘণ্টা চেষ্টার পর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকা বিমানবন্দরের ফ্লাইট কার্যক্রম রাত ৯টা ৬ মিনিট থেকে পুনরায় চালু হয়েছে।

 

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে (পণ্য রাখার স্থান) আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়লে চারপাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণে উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে প্রথমে নয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ৩৬টি ইউনিট করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার ও বাশার থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অগ্নি নির্বাপক সদস্য, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং অন্যান্য সংস্থা যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে রাত ৮টা ৫৩ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

 

অগ্নিকাণ্ডের কারণে দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় ঘটে।

 

ঢাকাগামী আটটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং একটি ফ্লাইট সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কিছু ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরেও পাঠানো হয়।

 

ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্যাক্সিওয়েতে আটকে পড়ে। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানের কুয়েতগামী একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

 

আকস্মিক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন যে ডিজিটাল স্ক্রিনে ফ্লাইট সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছিল না।

 

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ (ফ্লাইট সেফটি)-কে প্রধান করে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমদানি কার্গো ভিলেজে রাখা বিভিন্ন কুরিয়ার কোম্পানি, এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অফিস এবং বেসরকারি আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও জানানো হয়নি।

 

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তাদের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য অগ্নিকাণ্ডের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা বিমানবন্দরের ফ্লাইট কার্যক্রম রাত ৯টা ৬ মিনিটে একটি ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণের মাধ্যমে পুনরায় স্বাভাবিক হয়।



সম্পর্কিত খবর