কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানার বাইড়া গ্রামে বাইড়া আরিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরের পাড় ও রাস্তা রক্ষা করতে গিয়ে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারী চক্রের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় তিনজন। গত ২৬ জুলাই অলি মিয়া বাদী হয়ে কুমিল্লার আদালতে মামলা দায়ের করেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে থানায় নিয়মিত মামলা (এফআইআর) রেকর্ড হলেও ঘটনার এতদিন পার হলেও কোনো আসামী গ্রেপ্তার হয়নি। ফলে চিহ্নিত আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করে উল্টো মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের পুকুরসংলগ্ন দক্ষিণ কোণে অভিযুক্ত কয়েকজন যুবক বেপরোয়াভাবে লাফালাফি করে গোসল করায় পাড় ও চলাচলের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। স্থানীয়রা সামাজিক দায়িত্ব থেকে এতে বাধা দিলে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে গত ২১ জুলাই সন্ধ্যায় বাইরা বাজারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।এতে তিনজন গুরতর আহত হয়।
আহতরা হলেন বাইড়া গ্রামের মৃত মজিদ মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া,বাবুল মিয়ার ছেলে এমরান হোসেন, মৃত খলিল মিয়ার ছেলে অলি মিয়া।
হামলাকারীরা রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো ছুরি দিয়ে কোপালে তিনজন গুরুতর রক্তাক্ত হন। অস্ত্রের আঘাতে এক ভুক্তভোগীর ঠোঁট থেকে গাল পর্যন্ত কেটে যায়, যেখানে ভিতর-বাইরে মিলিয়ে মোট ২৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। অন্য এক ভুক্তভোগীর মাথায় চাইনিজ কুড়ালের কোপে লাগে ৭টি সেলাই। এছাড়া ভুক্তভোগীদের চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা এবং টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও উঠে এসেছে।
আহতদের স্বজনরা জানান, ঘটনার পর থানায় গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে রাজী হয়নি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশের পর বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ মামলাটি নিয়মিত এফআইআর হিসেবে গণ্য করে।
তবে মামলা দায়েরের পর আসামীদের গ্রেপ্তারে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে নতুন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম জানান, "কোর্টের নির্দেশে মামলা এফআইআর হয়েছে। মারামারি মামলা হওয়ায় সার্বিক বিষয় যাচাই-বাছাই করে আসামী গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"