সরকার চলতি বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়িয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা। অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কিনতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ, শ্যামলী ও হাজারীবাগ এলাকার কয়েকটি অস্থায়ী চামড়া সংগ্রহকেন্দ্র ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়- বিভিন্ন মসজিদ, এতিমখানা ও স্থানীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা চামড়া রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অনেকেই ক্রেতার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন। তবে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিক্রেতারা। শ্যামলীর একটি অস্থায়ী সংগ্রহকেন্দ্রে চামড়া বিক্রি করতে আসা মো. রাশেদ নামে এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, ‘গত বছর যে চামড়া ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি, এবার সেটার জন্য ৮০০ টাকার বেশি কেউ বলছে না। সরকার দাম বাড়ালেও মাঠে তার কোনো প্রভাব নেই।’
মালিবাগ এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা আগেই বলে দিয়েছেন বেশি দামে চামড়া নেবেন না। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনলে পরে লোকসান হবে।’ আরেক ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া ছাগলের চামড়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘ছাগলের চামড়া তো প্রায় কেউ নিতে চাচ্ছে না। অনেকে বিনামূল্যেও দিয়ে দিচ্ছেন। সংরক্ষণ খরচ তুলতেই কষ্ট হবে।’ তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, চামড়ার বাজার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। হাজারীবাগ এলাকার এক আড়তদার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি পিসে ৫০-৬০ টাকা বেশি দামে চামড়া কেনা হচ্ছে। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেক সময় সঠিকভাবে লবণ না দেওয়ায় দাম কমে যায়।