কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে সারাদিন নিখোঁজ থাকার পর নিজ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার হাত, পা বাঁধা এবং মুখে টেপ লাগানো ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিদ্যালয়ে এসএসসি-২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে যায়। তবে অনুষ্ঠান শেষে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও সে আর ফিরে যায়নি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে রাতে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে দপ্তরির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, দপ্তরি প্রথমে শিক্ষার্থীকে দেখেননি বলে জানান এবং বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে দাবি করেন। পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের ভেতরে খোঁজ করার অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে রাজি হননি। এমনকি স্থানীয়রা চাবি চাইলে সেটিও দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে একপর্যায়ে জোরপূর্বক চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো তল্লাশি করা হয়। এ সময় তৃতীয় তলার একটি কক্ষে অজ্ঞান অবস্থায় ওই ছাত্রীকে পাওয়া যায়। তার হাত-পা বাঁধা এবং মুখে টেপ লাগানো ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
উদ্ধারের পর দ্রুত তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের দপ্তরির ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।