ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে ঘিরে চার গ্রামের মানুষের উদ্যোগে এক মহাসমাবেশের মতো বিশাল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে চার গ্রামের হাজারো মানুষের উপস্থিতি এলাকাবাসীর রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস ও ঐক্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে পৌর এলাকার নারায়ণপুর চারগ্রাম ঈদগাঁহ মাঠে চারগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। শুরু থেকেই ঈদগাঁহ মাঠে চারদিক থেকে মানুষের ঢল নামে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দশকে নিজেদের সন্তানকে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে তারা এক বিরল ঐক্যের রেখায় দাঁড়িয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার কোনো ভুল–ত্রুটি থাকলে নিজ গ্রামের মানুষের কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। আমার কোনো ভুল হলে আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়েই আমি পথ চলছি। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য মাঠে থাকবেন—এই আমার বিনীত আবেদন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলের নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি পিছপা হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম সুরুজ খাঁ। সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সোহেল।
সভায় বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন রাজু, মোহাম্মদ ইউনুস, এসএ ফজলুল করিম সাদেক, হাজী জহিরুল হক জরু, আব্দুল আহাদসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, গত ৫৩ বছরে চার গ্রামের মানুষ কখনো নিজেদের এলাকা থেকে প্রার্থী পায়নি। তাই এবারের নির্বাচন তাদের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এলাকার সন্তান অ্যাডভোকেট মান্নানকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে নবীন–প্রবীণ, শ্রমজীবী–কৃষক–ছাত্র সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে চারগ্রামের সাধারণ মানুষ ফুলেল শুভেচ্ছা ও করতালির মাধ্যমে অ্যাডভোকেট মান্নানকে বরণ করে নেন। তাকে ঘিরে চারদিকের পরিবেশ উৎসবে রূপ নেয়।