বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ‘অধিকাল ভাতা’ (ওভারটাইম) পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদ। মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালীন কর্মবিরতির কারণে দুই ঘণ্টা দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
রবিবার (১০ মে) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মচারীরা বন্দরের ‘কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালে’ এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বলে জানান বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মিয়া।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদ এবং পুনরায় চালু করার দাবিতে রবিবার (১০ মে) ও সোমবার (১১ মে) দুই দিন এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছে স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদ।
মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ দৈনিক নির্ধারিত কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য ২২ বছর ধরে কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা দিয়ে আসছে। আমরাও সেভাবেই কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত সময় কাজ করে আসছিলাম। কিন্তু ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস হতে উক্ত ভাতা অর্থ মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দেয়। অতিরিক্ত ভাতা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছি। তাই অধিকাল ভাতা পুনরায় চালু করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনসহ কর্মবিরতির ডাক দেবেন বলে বক্তারা জানান।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০২৫-এর ধারা ৩ (ক) এবং বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০০৭-এর ধারা ৩ (ক, খ, গ, ঘ) অনুযায়ী প্রশাসনিক ও রাজস্ব দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত। তবে বাস্তবতায় বেনাপোল-পেট্রাপোল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। পাশাপাশি সকাল ৬টা থেকেই প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয়।
এছাড়া প্রধান দপ্তরের ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই তারিখের স্মারক অনুযায়ী ২০১৭ সালের পহেলা আগস্ট থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশনা রয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দর কার্যক্রম পরিচালনা বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি কর্মচারীদের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থলবন্দর বেনাপোলের ট্রাফিক পরিদর্শক নাহিদুজ্জামান, মেহেদী হাসান, লিটন হোসেন, শাহাদত হোসেন, তারেক রহমান, আমিনুর রহমান, হাফিজুর রহমান, আবুল বাশার প্রমুখ।