ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা শহিদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের এমপিওভুক্ত প্রভাষক নাহিদ পারভেজ (রাজা)-কে ঘিরে একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একদিকে সরকারি বেতনভুক্ত শিক্ষক হিসেবে ভৈরবা শহিদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে কর্মরত থাকলেও অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের কৃষি অনুষদে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, নাহিদ পারভেজ ১৯ জুলাই ২০০৪ সালে ভৈরবা শহিদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০১৪ সালে তিনি ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে যোগ দেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একই সঙ্গে আরেকটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন কতটা নিয়মসঙ্গত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামের আগে ডক্টর পদবি ব্যবহার করা হলেও কলেজের অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা তাঁর ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানেন না বলেও আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, ভৈরবা শহিদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেই তিনি এখানে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার কৃষি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল আলম বলেন, তাঁকে শুধু শুক্রবার ও শনিবার অন্যত্র চাকরি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি অন্য কোথাও কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি আমার জানা নেই। ডক্টরেট ডিগ্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরাও শুনেছি তিনি ডক্টরেট করেছেন, তবে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র কলেজে জমা দেননি। যদিও এটি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল না।
অভিযোগের বিষয়ে প্রভাষক নাহিদ পারভেজ (রাজা) বলেন, আমি এখানে কোনো অনিয়ম দেখছি না। নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা উচিত।