জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের তুমুল হট্টগোলের মুখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নিজের বক্তব্যের সময় বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি বলেছেন, যদি কথাই না বলতে পারি, এটাই যদি ডেমোক্রেসি হয়... আমি কী বলতাম, কেউ তো শুনছে না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। এ সময় স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলছিল। অধিবেশনে বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় এমপিদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে আইনের শাসনের কবর রচনা করা হচ্ছে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা এক কথা না...। তার এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও টেবিল চাপড়ানো শুরু করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। তুমুল হট্টগোলের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়েস, আই উইথড্র, আই উইথড্র (আমি প্রত্যাহার করছি)।
পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলিনি। আমি বুঝিয়েছি, এটা জাতীয় সংসদ। বাইরের বক্তৃতা এখানে চলে না। শুধু হাওয়াইভাবে, আমভাবে যদি বলা হয় যে এসব হচ্ছে-কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয়নি, কোথায় এমপির মামলায় আসামি ধরা পড়েনি, তার স্পেসিফিক (সুনির্দিষ্ট) প্রশ্ন ও বর্ণনা দরকার।
তিনি আরও বলেন, স্পেসিফিক প্রশ্ন করতে হবে, স্পেসিফিক উত্তর দিতে হবে। এটাই আমার উদ্দেশ্য ছিল।
স্পিকারের কাছে প্রটেকশন চেয়ে তিনি বলেন, মাননীয় সদস্য সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন, আমিও দাঁড়িয়ে থাকবো।
এ সময় জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও একে অপরকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।