খুলনা

কালীগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানে এসে ইটভাটা শ্রমিকদের বাধায় অবশেষে ফিরে গেল পরিবেশ অধিদপ্তর

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইটভাটা উচ্ছেদ করতে এসে ভাটা শ্রমিকদের বাধায় অবশেষে ফিরে গেল পরিবেশ অধিদপ্তর।

 

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভা-ধীন শিবনগর এলাকার মকছেদ আলী ব্রিকসে অভিযান চালাতে আসে। এ সময় ওই ভাটার সকল শ্রেণির শ্রমিকরা ভেঁকুর সামনে শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। এ সময়ে তাঁরা বলেন, 'ভাটা ভাঙতে হলে আমাদের ওপর দিয়ে যেয়ে লাশ বানিয়ে ভাঙতে হবে।' তাঁদের দাবি, 'এ ভাটায় আমরা প্রায় দুই শত (২০০) শ্রমিক পরিবার কাজ করি। আমরা অসহায় গরিব মানুষ, এখন ভাটা ভেঙে দিলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।'

 

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমান, কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম, কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোফাজ্জেল হকসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

 

ইটভাটার শ্রমিক চান্দু মিয়া জানান, 'আমরা প্রতি বছর কোনো না কোনো ভাটায় কাজ করি। এ বছর এখানে কাজ করছি। এখানে আমরা দুই শত-এর অধিক শ্রমিক রয়েছি। এখন ভাটা উচ্ছেদ করলে আমরা সবাই বেকার হয়ে যাব। ভাটা ভাঙলে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আমাদের দাবি, এ বছরের মতো ভাঙা যাবে না। আগামী বছর আমরা আর ভাটায় কাজ করব না' বলেও উল্লেখ করেন এ শ্রমিক।

 

পরিবেশ অধিদপ্তর চতুর্থবারের মতো এ ভাটায় অভিযান চালায়। এ সময় ইটভাটার প্রধান ফটকে 'ভাটার সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে' মর্মে ফুটনোটে একটি নোটিশ মালিক পক্ষ কর্তৃক ঝুলিয়ে রাখতেও দেখা যায়।

 

কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম জানান, 'ইটভাটা ভাঙার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের। সোমবার দুপুরে মকছেদ আলী ব্রিকসে যাওয়ার পর শ্রমিকরা শুয়ে পড়ে ভাটা না ভাঙার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন, ফলে পরিবেশ অনুকূলে ছিল না। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। তাঁদের পরামর্শে ফিরে আসি। তবে ফিরে আসলেও এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করবেন বলে উল্লেখ করেন।' তবে এ ঘটনায় ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমান কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।



সম্পর্কিত খবর