খুলনা

কোটচাঁদপুরের কুশনা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্ধশত বছর ধরে জমি দখল এবং সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তদন্ত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে মনগড়া তথ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার জালালপুর গ্রামের ৫৩ নম্বর জালালপুর মৌজার ২৪৬ আরএস খতিয়ানের ৫১১ দাগের ৩৪ শতক জমির মালিক ওই গ্রামের আলী আহম্মদ, আলী আজগরসহ তাঁর পরিবারের ১১ জন সদস্য। ওই জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন তাঁরা। এমনকি ২০২৬-২০২৭ সালের ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানও করেছেন তাঁরা। খতিয়ান, নামজারিসহ সকল কাগজপত্রও রয়েছে তাঁদের নামে। কিন্তু সম্প্রতি ওই গ্রামের মৃত শান্তি লস্করের ছেলে তুহিন লস্কর ও শাহিন লস্কর ওই জমির মধ্যে ১৭ শতক জমি নিজেদের বলে দাবি করে জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করেন। নিরীহ আলী আজগরের পরিবার জমির দখল ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করে তা তদন্তের জন্য কুশনা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বরাবর আদেশ দেন।

আলী আজগরের অভিযোগ, তদন্ত করতে এসে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। জমিতে প্রাচীর দিয়ে দখল থাকলেও তিনি বিবাদীদের দখল দেখিয়েছেন।

ভুক্তভোগী আলী আজগর অভিযোগ করে বলেন, "দবির উদ্দিন যখন তদন্ত করতে আসেন, তখন আমরা আমাদের বাড়িতে অবরুদ্ধ ছিলাম। তিনি আমাদের সাথে কোনো কথা না বলে ও কোনো কাগজপত্র না দেখে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।"

আরেক ভুক্তভোগী আলী আহম্মেদ বলেন, "ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন অনিয়ম করে এই প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমরা পুনরায় তদন্ত চাই। সেই সাথে দবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, "আমি তদন্তে গিয়ে আলী আহম্মদ, আলী আজগর বা ওই পরিবারের কাউকে পাইনি। স্থানীয়রা যা বলেছেন, সেই অনুযায়ী রিপোর্ট দিয়েছি।" তাঁরা অবরুদ্ধ ছিলেন—এটা জানার পরও আপনি তাঁদের সাথে কথা বলতে তাঁদের বাড়িতে গেলেন না কেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

 


সম্পর্কিত খবর