গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আকবর হোসেনকে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অবসরোত্তর সময়েও তিনি প্রভাব খাটিয়ে পদে থাকার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের একাংশ দাবি করেছেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘ চাকরি জীবনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ঠিকাদারি কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছিলেন আকবর হোসেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে বলে তারা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। ওই সময় কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে টেন্ডার ফাইল নিয়ন্ত্রণ এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, আকবর হোসেনের ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও পিআরএল স্থগিত রেখে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সরকারের আমলে দেওয়া বেশ কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত হলে তার নিয়োগও বাতিল হয়। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে শওকত হোসেন সরকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিটিকে “গ্রিন ও ক্লিন সিটি” হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অবসরোত্তর সময়েও প্রধান প্রকৌশলীর পদ ফিরে পেতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করছেন আকবর হোসেন। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, অবসরের পর একই ব্যক্তিকে আবার দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এক কর্মকর্তা বলেন, অবসরোত্তর নিয়োগের বিষয়টি সবসময়ই সংবেদনশীল। অভিযোগ থাকা কোনো কর্মকর্তাকে আবার দায়িত্ব দিলে তা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, এ বিষয়ে অফিসিয়াল কোনো চিঠি আমি পাইনি। আমিও বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি।
এদিকে আকবর হোসেনকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।