ঝিনাইদহের সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজে (কেসি কলেজ) ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে কলেজ প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কলেজের মূল ফটকের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও সড়ক আটকে উন্মুক্ত স্থানে প্রতীকী নবীনবরণের আয়োজন করে ছাত্রশিবির।
এ সময় কলেজের তালাবদ্ধ প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। সড়কের ওপর ট্রাক দিয়ে তৈরি ভ্রাম্যমাণ মঞ্চে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। এ সময় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ ফ্যাসিবাদী আচরণ করেছেন। নবীনবরণের অনুমতি দিয়েও তারা অনুষ্ঠানের দিন কলেজ বন্ধ করে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছেন। কলেজ প্রশাসনের এ ধরনের আচরণের বিচার ঝিনাইদহের মানুষ করবে এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।"
এ সময় বক্তারা কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষর পদত্যাগ দাবি করেন। পরে ঝিনাইদহ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করে কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
এদিকে এ ঘটনায় সরকারি কেসি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাসরুর উল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।