ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা ও ধনিয়া চাষকে কেন্দ্র করে মৌচাষে বিপ্লব ঘটেছে। উপজেলার ফসলি মাঠে স্থাপিত ২ হাজার ২০৫টি মৌবক্স থেকে এবার প্রায় ২৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা এবং ৫২৫ হেক্টর জমিতে ধনিয়ার আবাদ হয়েছে। এসব ফসলের পরাগায়নে মৌমাছি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ফলন ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সরিষার মাঠে মৌমাছির উপস্থিতিতে বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৫০ কেজি বাড়তি ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
সরেজমিনে রছুল্লাবাদ, সাতমোড়া ও জিনদপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ সরিষা ও ধনিয়া খেতে সারিবদ্ধভাবে মৌবক্স বসানো হয়েছে। দুই দশক ধরে মৌচাষ করা উদ্যোক্তা আনিস জানান, এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি পেশা। অন্যদিকে কালঘড়া গ্রামের কৃষক ফয়সাল আব্বাস জানান, সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে ৫টি মৌবক্স নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ৫০ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “মৌমাছি শুধু মধু সংগ্রহ করে না, পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনও বাড়ায়। এতে কৃষকের দ্বিমুখী আয়ের পথ সুগম হয়েছে।” ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন জানান, পরিকল্পিত মৌচাষ নবীনগরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।