নরসিংদীতে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় একের পর এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের মাতম বইছে পরিবারে। কিন্তু দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে হাসপাতাল মালিকদের সংগঠন উল্টো হুমকি দিয়েছে—চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা না দিলে সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মাধবদীর একটি হাসপাতালে সিজারের পর মা ও নবজাতকের মৃত্যু, সিটি হাসপাতালে প্রসূতি সোনিয়া আক্তারের মৃত্যু, এর আগে শহর ও শিবপুরে একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাসহ সব জায়গায় একই অভিযোগ উঠেছে—চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার চাইতে গিয়ে বারবার বিক্ষোভ করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত অর্থের লেনদেনে ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।
সাধারণ মানুষের দাবি—এমন মানববন্ধন আসলে দায় এড়ানোর কৌশল। রোগীর মৃত্যু নিয়ে জবাবদিহি না করে হাসপাতাল মালিকরা নিরাপত্তার অজুহাতে হুমকি দিচ্ছেন। এতে মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জেলার বহু ক্লিনিক ও হাসপাতাল অনুমোদন ছাড়াই অপ্রশিক্ষিত কর্মী দিয়ে চলছে, আর একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এসব প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করছে। ফলে মৃত্যুর পরও কেউ জবাবদিহির মুখোমুখি হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন—প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
তাদের মতে, কোনো ঘটনা ঘটলেই তদন্ত চলছে বলে কালক্ষেপণ করা হয়। তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ নয়, দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপই পারে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে। স্থানীয়রা স্পষ্ট করে বলেন, মানববন্ধনের হুমকি নয়—ভুল চিকিৎসার দায়ে বিচার চায় জনগণ।