নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার (৮৪) নামে এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
২২ আগস্ট শনিবার বিকেল ৩টায় ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে ১২ আগস্ট সকাল সাড় ৮টায় উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেক গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আমিন উল্যাহ উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেক গ্রামের মৃত মজু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টায় বাড়ির সামনে নিজ দখলীয় নাল জমিতে ধান চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন আমিন উল্যাহ হাওলাদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমিন উল্যাহসহ পরিবারের আটজন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার এবং তাঁর দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন ও জাকের হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় আমিন উল্যাহ হাওলাদার ও আনোয়ার হোসেনকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে আমিন উল্যাহ হাওলাদারের মৃত্যু হয়। (নোট: মূল অনুচ্ছেদের শুরুতে 'শনিবার' বলা হলেও শেষে ভুলবশত 'শুক্রবার' ছিল, যা সংশোধন করা হয়েছে)
আহত জাকের হোসেন বলেন, "পৈতৃক সম্পত্তিতে কয়েক যুগ ধরে আমরা চাষাবাদ করে আসছি। সম্প্রতি স্থানীয় অপর একটি পক্ষ ওই জমি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও জমিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ১২ আগস্ট অন্যান্য বছরের মতো রোপা আমন ধানের চারা লাগাতে গেলে প্রতিপক্ষের একরাম (৫০), আহছান উল্যাহ (৪৫), ইয়াকুব (৩৫), ফয়েজ উল্যাহ (৪২), সিরাজ (৪১), সালাউদ্দিন খোকন (৫২), ইসমাইল (২৫), আফসার (২৪), সাহাব উদ্দিনসহ (৪০) ৩০-৪০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পরিবারের আট সদস্যকে গুরুতর আহত করে।"
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "জমি হস্তান্তরের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে এবং উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।"
ওসি আরও জানান, নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে, বিবাদী পক্ষের এক ব্যক্তিও মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।