ঢাকা

বাবার চোখের সামনেই তুলে নেওয়া হয় কিশোরী কে,১৫ ঘন্টা পর সরিষা ক্ষেতে মিলল মরদেহ

নরসিংদীর মাধবদীতে এক কিশোরীকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বখাটে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। নিহত কিশোরীর নাম আমেনা আক্তার (১৮)।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানা এলাকার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আমেনা বরিশালের বাসিন্দা আশরাফ হোসেনের মেয়ে। পরিবারটি মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছিল।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৫–৬ জনের একটি দল আমেনাকে অপহরণ করে। সে সময় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে বুধবার রাতে আবারও ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

বুধবার রাত আনুমানিক কাজ শেষে বাবা আশরাফ হোসেন মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে বের হন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূর মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা বাবার সামনে থেকেই জোরপূর্বক আমেনাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরদিন সকালে খবর আসে, পাশের একটি সরিষা ক্ষেতে আমেনার মরদেহ পড়ে আছে।

নিহতের বাবা মো. আশরাফ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“আমার চোখের সামনেই আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। সারারাত খুঁজেও পাইনি। সকালে শুনি আমার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে। যারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে কামাল হোসেন, ওসি, মাধবদী থানা বলেন,

“প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত কিশোরীর সঙ্গে নূর মোহাম্মদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পরিবার মেনে নেয়নি। বুধবার রাতে তাকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সকালে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



সম্পর্কিত খবর